উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ধর্মীয় শিক্ষা ও ইবাদতের পবিত্র অঙ্গনকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। জামেয়া কোরআনিয়া নোয়াকুট মাদ্রাসার শিক্ষক ও শারপিন বাজার জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ আব্দুল মন্নানের বিরুদ্ধে সুদের শর্তে লাখ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নির্দিষ্ট অঙ্কের সুদের বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে টাকা ধার দিয়ে আসছেন। ঋণের টাকা ও সুদ সময়মতো পরিশোধ করতে না পারলে ঋণগ্রহীতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি, বেতন ভোগ এবং দোকান দখলের চেষ্টার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রাপ্ত অভিযোগ অনুযায়ী, সুদের টাকা সময়মতো পরিশোধ করতে না পারায় এক ঋণগ্রহীতার বেতন নিজেই ভোগ করছেন হাফেজ আব্দুল মন্নান। অন্য এক ঋণগ্রহীতার দোকান দখলের চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমনকি ঋণের টাকা পরিশোধের চাপ ও ভয়ের কারণে কয়েকজন ঋণগ্রহীতা এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা ও মসজিদে ইমামতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ স্থানীয়ভাবে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাদের বক্তব্য, আর্থিক লেনদেনের নথি, সাক্ষীদের তথ্য এবং অভিযুক্তের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগকারীদের দাবি, হাফেজ আব্দুল মন্নানের কথিত সুদের কারবার সম্পর্কে তাঁদের কাছে একাধিক সাক্ষী ও রেকর্ডকৃত তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। এসব তথ্যপ্রমাণ যাচাই করে বিস্তারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ইসলামে সুদকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনের সূরা আল-বাকারার ২৭৮-২৭৯ নম্বর আয়াতে সুদ পরিহারের নির্দেশ এবং তা থেকে বিরত না হলে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ফলে ধর্মীয় দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুদের কারবারের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন তৈরি করে।
তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা যায় না। এ বিষয়ে হাফেজ আব্দুল মন্নানের বক্তব্য, অভিযুক্ত লেনদেনের প্রকৃতি এবং অভিযোগকারীদের উপস্থাপিত নথিপত্র যাচাই করা জরুরি। অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
এখন প্রশ্ন—ধর্মীয় পরিচয় ও দায়িত্বের আড়ালে সত্যিই কি সুদের কারবার চলছে, নাকি অভিযোগের পেছনে রয়েছে অন্য কোনো বিরোধ? নিরপেক্ষ তদন্ত ও তথ্যপ্রমাণ যাচাইয়ের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসা উচিত প্রকৃত সত্য।