উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সিলেটে স্বাস্থ্যসেবার মান ও হাসপাতালের রোগী ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। হামের উপসর্গ নিয়ে এক সাংবাদিকের মাধ্যমে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২১ অক্টোবর রাতে ভর্তি হওয়া ১৪ বছর বয়সী সোহানের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরদিন তার সন্ধান মেলে নগরীর আম্বরখানা এলাকার ফ্রিডম হাসপাতালে।
কীভাবে ওই কিশোর এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে গেল, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এদিকে, হামের উপসর্গ থাকার কথা উল্লেখ করে রোগীর চিকিৎসা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্বস্থ সুত্র জানিয়েছে, ফ্রিডম হাসপাতালে সোহানকে প্রতিদিন তিনটি করে এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার কথাও জানিয়েছেন হাসপাতাল সূত্র।
এমন পরিস্থিতিতে রোগীর রোগ নির্ণয়, চিকিৎসাপদ্ধতি এবং দেওয়া ওষুধের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতাল কেন্দ্রিক দালালদের দৌরাত্ম্য ও রোগী ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে জানিয়েছেন স্বজনরা। তবে রোগীকে মতিন নামের এক দালালের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানাযায়। সেই দালাল এর সিদ্ধান্তে তাকে ওসমানীর আইসিলোশন থেকে ফ্রিডম হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এই অনিয়ম ঘটনা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
একইভাবে, হামের উপসর্গ থাকলে সঠিক পরীক্ষা ও চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণ জরুরি। অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসজনিত হাম সরাসরি নিরাময় করে না; তবে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ থাকলে চিকিৎসক তা প্রয়োগ করতে পারেন। ১৪ বছর বয়সী সোহানের শারীরিক অবস্থার অবনতি ও মুখে দুর্গন্ধের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত চিকিৎসা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তার চিকিৎসার নথি, পরীক্ষার প্রতিবেদন ও ইনজেকশনের বিবরণ যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এবিষয়ে জানতে আম্বরখানা ফ্রিডম হাসপাতাল এর ডাক্তার মামুন সাহেবের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন সোহান হামের রোগী জানতামনা, রোগী দেখার পর টেস্ট করে জানতে পেরেছি। ডইঈ যদি ২০০০ কাউন্ট করে তাহলে এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন দেওয়া যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন দেওয়া যায়না, আর হামের জন্য থাকে ইনজেকশন দেওয়া হয়নি, তাহার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা একবারে নাই তাই দিয়েছি। আপনাদের ফ্রিডম হাসপাতালে হাম রোগী ভর্তির সরকারী নির্দেশনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন হামের নাই, ডেঙ্গুর আছে।
এবিষয়ে জানতে সিভিল সার্জন ডা: মো: নাসির উদ্দিন এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করে হাম থাকাবস্থায় এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন দেওয়া যায় কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন দেওয়া যায়না, তবে কি পরিস্থিতিতে এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে তা কেবল কনসালটেন্ট বলতে পারবেন। ওসমানী হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগী কিভাবে বাহিরে চলেগেল এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি উপজেলা এবং প্রাইভেট হাসপাতাল দেখি,ওসমানীর আলাদা কর্তৃপক্ষ আছে তারা বলতে পারবেন। প্রাইভেট হাসপাতাল গুলো হাম ও ডেঙ্গুরোগী ভর্তি করতে পারবে কিনা জানতে চাইলে বলেন নির্দেশনা দেওয়া আছে।
এসব বিষয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিতে বারবার ফোন করলেও ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।সরকারী হাসপাতালে রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চিকিৎসায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং হাসপাতালকেন্দ্রিক অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা এখন জরুরি।