উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
৬ই অক্টোবর—আমাদের প্রিয় সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এই দিনটি হওয়ার কথা ছিল আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর উৎসবের। পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে থাকার কথা ছিল হাসি-আনন্দের আমেজ, শিক্ষার্থীদের কোলাহল আর ২১ বছরের পথচলা উদযাপনের আয়োজন। কিন্তু বাস্তবতা আজ সম্পূর্ণ ভিন্ন।
যে ক্যাম্পাসে আজ শিক্ষার্থীদের থাকার কথা ছিল শ্রেণিকক্ষে, ল্যাবে কিংবা পড়ার টেবিলে—সেই শিক্ষার্থীরাই আজ রাজপথে। নিজেদের অধিকার, অস্তিত্ব ও পরিচয় রক্ষার দাবিতে আজ তারা এক কাতারে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই গৌরবময় দিনেও আনন্দের পরিবর্তে ক্যাম্পাসজুড়ে বয়ে যাচ্ছে এক নীরব প্রতিবাদের আবহ।
দেশের নানা প্রান্ত থেকে স্বপ্ন নিয়ে আসা এই তরুণদের আজ পড়ার টেবিল ছেড়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে। ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনের আজ ১০ম দিন। দীর্ঘ এই পথচলায় ক্লান্তি এসেছে, কষ্ট এসেছে, অনিশ্চয়তা এসেছে—তবুও নিজেদের অস্তিত্ব ও পরিচয়ের প্রশ্নে শিক্ষার্থীরা একটুও পিছপা হয়নি।
মরহুম এম. সাইফুর রহমান যে স্বপ্ন নিয়ে এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন, কারিগরি শিক্ষা বিভাগের অদক্ষ ও ব্যর্থ প্রশাসনিক কাঠামো সেই স্বপ্নকে আজ ভেঙে চুরমার করেছে। একটি বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ন্যূনতম সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ এই কাঠামোর অধীনেই ২১ বছর ধরে চলছে আমাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠান।
এই ব্যর্থ কারিগরি প্রশাসনিক কাঠামো থেকে অচিরেই মুক্ত করে SUST-এর ইনস্টিটিউট ( IET ) হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের একমাত্র দাবি। তাই আজকের এই লড়াই শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তনের জন্য নয়— এটি আমাদের অস্তিত্ব, পরিচয় ও মর্যাদা রক্ষার লড়াই।
আজকের এই ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তাই উৎসবের রঙে নয়, বরং নীরব প্রতিবাদের ভাষায় আমরা স্মরণ করছি আমাদের পথচলাকে। সেই উপলক্ষে আজকে দুপুর ৩.০০ ঘটিকায় একটি Rally আয়োজিত হয় , যেটা ক্যাম্পাস থেকে ইকোপার্ক হয়ে আবার ক্যাম্পাসে ফিরে আসে । আর বিকেলে ও রাতে প্রীতি ভলিবল ও ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া দুপুরে ছাত্রদের নিজেদের পক্ষ থেকে খাবার এর আয়োজন করা হয়। অপূর্ণতার আজ ২১ বছর তবুও স্বপ্ন বেঁচে আছে, লড়াই চলছে, চলবে।